বেদনা মধুর হয়ে যায় তুমি যদি দাও………


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

ISlam

শিরোনাম দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি কোন রোমান্টিক লেখা লিখতে বসিনি। আমি আপনাদের আজ মুসলিমদের এমন কিছু ব্যাথাতুর গল্পের পাণ্ডুলিপি শুনাব যা যুগে যুগে মুসলিমদের চোখে আনন্দাশ্রু ঝরিয়েছে। যে ব্যথায় ব্যথাতুর হয়ে মুসলিমরা আল্লাহ্‌র দ্বীনকে ভালবাসতে শিখেছে। আল্লাহ্‌র জন্য জীবন দিতে শিখেছে। আসুন গল্প শুরু করি……

হযরত হানযালা (রাঃ)। চিনতে পারছেন না তাইতো?? তিনি একজন সাহাবী ছিলেন। ঘটনাটা উহুদ যুদ্ধের আগে। তখন নিয়ম ছিল যুদ্ধের আগের দিন মুজাহিদদের বেস ক্যাম্পে থাকতে হত। কিন্তু যুদ্ধের আগের দিন হযরত হানযালা (রাঃ) এর বিয়ে হয়। আগামীকাল উহুদের যুদ্ধ আর আজ হানযালার বাসর! রাসুল (সাঃ) তাকে বেস ক্যাম্প থেকে ছুটি দেন তার বিয়ে উপলক্ষে। পরদিন সকাল বেলা জিহাদের ডাক আসলে হানযালা তড়িঘড়ি ঘরে আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদে বেড়িয়ে পড়েন। কোন সঙ্কোচ নেই, কোন থমকে যাওয়া নেই! নববধূর চোখের পানি ছিল কিনা জানিনা কিংবা থাকলেও সেটা হানযালাকে আটকাতে পারেনি। যে মানুষটা বিয়ে করেছে সে হয়ত বুঝতে পারবে বিয়ের পরের মুহূর্তগুলো একজন মানুষের জীবনে কতো আনন্দের, কতো আকাঙ্ক্ষিত। মনে হবে এই সময়গুলো যেন সারাজীবন ধরে চলতে থাকে……
এধরণের একটা মুহূর্ত থেকে হানযালা উহুদের যুদ্ধে গিয়েছিলেন। এবং সুবাহানাল্লাহ তিনি এত বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন যে এক পর্যায়ে তিনি কাফেরদের দলপতি, নিরাপত্তায় বেষ্টিত আবু সুফিয়ানকে হত্যার কাছাকাছি চলে যান। কিন্তু কঠিন নিরাপত্তাবলয় ভাঙতে গিয়ে তিনি শহীদ হন।

আমরা ইসলামপন্থীরা কথায় কথায় মুসলিম উম্মাহ শব্দটা ব্যবহার করি। আমরা সবাই মনে করি আমরা উম্মাহর জন্য চিন্তিত। আমরা উম্মাহ রক্ষার কাজ করছি ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে উম্মাহ বলতে আমরা আসলে কি বুঝি!! উম্মাহ কষ্টে থাকবে, উম্মাহর রক্ত ঝরবে, উম্মাহ উদ্বাস্তু হবে, উম্মাহ আল্লাহ্‌র জমিনে গিনিপিগ হয়ে থাকবে আর আমরা উহ্, আহ্, হায় হায় রব তুলে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস ছবি শেয়ার দিয়ে উম্মাহর প্রতি আমাদের দায়িত্ব পরিপূর্ণ করব?? আসলেই এরকম কিনা সেই চিন্তার ভার আপনাদের দিলাম, আমার লেখার উদ্দেশ্য আপনাদের উম্মাহর প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা নয়। আমি আল্লাহ্‌র রাস্তায় কষ্টের পাথর বুকে চেপে নিশ্চুপে, নিভৃতে আল্লাহ্‌র কাজ করে যাওয়া আমার মুসলিম ভাই বোনদের কিছু কথা আপনাদের জানাতে চাই।

কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধুকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। অনেক চেষ্টা তদবির করে তার জামিন হয়। কিন্তু জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় জেলগেটে বেচারাকে আবারো আটক করা হয়। সে আমার সরাসরি বন্ধু না। আমার আরেক বন্ধুর মাধ্যমে তার সাথে আমার পরিচয়। সে জেলে থাকার সময় আমার সেই বন্ধু বলতেছিল, জীবনটা কি অদ্ভুত তাইনা?? ক্লাস হচ্ছে, পরীক্ষা হচ্ছে, ল্যাব হচ্ছে, আমরা সেসব নিয়া ব্যস্ত, টেনশন করছি আর আমার বন্ধুর কাছে কি এসবের কোন অর্থ আছে?? ভুল হোক শুদ্ধ হোক সে আল্লাহ্‌র রাস্তাতেই তো কাজ করতে গিয়ে জীবনের কিছু সংজ্ঞা অন্যভাবে ভাবছে। একটাই জীবন অথচ কি বৈপরীত্য আমাদের এক একজনের চিন্তায়। যেদিন আমার খুব কাছের এক ভাই আটক হল এর পরের দিন আমার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। ঐদিন রাতে আমার ঘুম হয়নি। পরদিন পরীক্ষার হলে লেখা শেষ করে কেমন একটা আনমনা হয়ে বসে আছি তখন ম্যাডাম জিজ্ঞেস করল আমি ঠিক আছি কিনা! পরীক্ষার হলে আমার চারপাশের ছেলেমেয়েগুলোকে দেখছিলাম খুব আগ্রহ নিয়ে। এদের সবাইকে আমি চিনি। এরা সবাই ক্যাম্পাসে সারাদিন অনেক হৈ হুল্লোড় করে। চঞ্চলতা, বন্ধু আড্ডা গান লেগেই থাকে এদের প্রতিটা দিনে। কিন্তু পরীক্ষার হলে চিত্রটা কতো ভিন্ন। টেনশনে এক একটা মুখ শুকিয়ে কিম্ভূতকিমাকার দেখাচ্ছে। কারো দুই তিন মার্ক্সের একটা প্রশ্ন হয়তো ছুটে গেছে, কেউ হয়তো একটা উত্তর ভুল লিখেছে, কারো হয়তো পরীক্ষার হলে খাতা দশ মিনিট রেখে দিয়েছে…… টেনশন…… আক্ষেপ…… আফসোস!! এদের কাছে আমার বন্দী ভাইয়ের কোন গুরুত্ব নেই! রিমান্ডে নির্যাতিত দাড়িওয়ালা হুজুরের কথা এরা জানেনা, কারাগারের চারদেয়ালে বন্দী দাঁড়ি মুখের শান্ত চেহারার তরুণ ছেলেগুলোর বুকের সুখ সুখ ব্যথা এরা কোনদিন অনুভব করতে পারবে না। কোনদিন না। আফসোস……

পৃথিবীর প্রতি প্রান্তে প্রান্তে আমার মুসলিম ভাই বোনেরা অনেক কষ্টে আছে ভাই। অনেক কষ্টে। আপনি কি কোনদিন অনুভব করেছেন কতো তীব্র সেই কষ্ট?? একটা প্রশ্ন করি?? উম্মাহর ঐক্য কি?? উম্মাহর ঐক্য মানে এই না যে আমরা সবাই ফটোকপি হব, সবাই এক হব। নিজেদের মধ্যে মতের অমিল রাসুল (সাঃ) সময় থেকেই ছিল এটা সারাজীবন থাকবে। উম্মাহর ঐক্য হল তখন যখন আপনার এক মুসলিম ভাইয়ের কষ্টে আপনি ব্যথিত হবেন। যখন আপনার মুসলিম ভাই বোনের চোখের পানি দেখে মনের অজান্তেই আপনি কেঁদে ফেলবেন। যখন আপনার কোন ভাইয়ের বিপদের কথা মনে করে খেতে বসে আপনার গলায় খাবার আটকে যাবে। যখন আপনি আল্লাহ্‌র কাছে কেঁদে কেঁদে বলবেন, হে আল্লাহ্‌ আমার ভাইকে রক্ষা কর, আমার বোনকে রক্ষা কর। This is the way you feel the ummah my dear brothers. This is the way…….

আমরা প্রতিদিনই শুনি এতজন গ্রেফতার হয়েছে। প্রতিদিনই শুনি গুয়ান্তনামো, আবু গারিবের মত কারাগারে আমাদের ভাই বোনেরা নির্যাতিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা কোনদিনও আমার ভাইটির কথা ভাবিনা তার পরিবারের মত করে। তার মা বাবার কতো টেনশন। তার স্ত্রীর কি কান্না। তাদের বাসায় হয়তো রান্নাই হয়নি, ছোট ছোট বাচ্চাগুলো কাঁদতে কাঁদতে হয়তো না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছে। মমতাময়ী মা, প্রিয় স্ত্রী, বা, ভাই বোন সবার চোখ নির্ঘুম আর শঙ্কা। বন্দী হওয়া ছেলেটা হয়তো বেঁচে ফিরবে কিংবা শহীদ হয়ে। এরকম অসংখ্য ত্যাগের পাণ্ডুলিপি দিয়ে ইসলামের বিজয়ের গল্প সাজানো হয়েছে। অকাতরে বিলিয়ে দেওয়া জান মালের বিনিময়ে আল্লাহ্‌ কিছু মানুষকে তার প্রিয় বান্দা হিসেবে পছন্দ করেছেন।

আমি মুসলিমদের উপর নির্যাতনের কথা আসলেই ইরাকে আমাদের বোন ফাতেমার কথা বলি। এই বোন তার মুসলিম ভাইদের উদ্দেশ্য করে একটা চিঠি লিখেছিল। আবু গারিব গারাগারে অন্য মুসলিম বোনদের সাথে আমেরিকান কুত্তাদের দ্বারা দিনে নয়বার ধর্ষিত হওয়ার কষ্ট বুকে চেপে এই বোন তার মুসলিম ভাইদের কাছে লেখা চিঠি শুরু করেছে কিভাবে জানেন?? সে শুরু করেছে এভাবে,
“বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইছি। পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

ক্বুল হু ওয়াল্লাহু আহাদ (বল আল্লাহ এক)
আল্লাহুস সমাদ (আল্লাহ অমুখাপেক্ষী)
লাম ইয়ালিদ (তিনি কাউকে জন্ম দেননি)
ওয়ালাম ইউলাদ (না তাঁকে কেউ জন্ম দিয়েছে)
ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ (তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই) – সুরা ইখলাসঃ ১-৪

আমি শুরুতে এই সুরার উদ্ধৃতি দিলাম, কেননা আমি মনে করি মহান আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরার জন্য এই সুরাটিই সবচেয়ে ভালো, আর মুমিনদের অন্তরে এই সুরাটি দৃঢ়ভাবে গেঁথে আছে।”
সুবাহানাল্লাহ! আল্লাহু আকবর! চরম কষ্টের মুহূর্তেও এই বোন আল্লাহ্‌র গুণগান গাইতে ভুলেনি। এ কি আপনার আমার মুসলিম বোন নয়? আল্লাহ্‌ এদের মাধ্যমে আমাদের পরীক্ষা করছেন। আল্লাহ্‌ এদের উপর যে অসহ্য যন্ত্রণা দিয়েছেন এতে আস্থা রাখা বোনদের জন্য আল্লাহ্‌র কাছে অফুরন্ত পুরষ্কারের ডালি অপেক্ষা করছে ইনশাআল্লাহ। এই ব্যথা , এই যন্ত্রণা হাজারগুণ আনন্দের উপলক্ষ হয়ে তাদের কাছে ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ। ইরাকে আমার মুসলিম বোনদের ক্রমাগত ধর্ষণের কিছু প্রসেসের গল্প শুনবেন?? আমি মেয়ে নই, আমি ছেলে। তারপরও এই আর্টিকেলটা আমি দুই প্যারার বেশী পড়তে পারিনি। আমার সেই সাহস হয়নি। এরা আমাদের বোন, এরা আমাদের মুসলিম ভাইদের স্ত্রী, কারো মা! পড়ে দেখুন এবং ভাবুন……

http://www.globalresearch.ca/the-dark-and-secret-dungeons-of-iraq-horror-stories-of-female-prisoners/5313974

হযরত বিলাল (রাঃ) আমার খুব প্রিয় একজন সাহাবী। তাঁর উপর মুশরিকদের অত্যাচারের বিবরণ নতুন করে বলার কিছু নেই। ইসলাম গ্রহণ করার পর যে সাতজন প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহনের কথা ঘোষণা করেছিলেন হযরত বিলাল তাদের একজন অথচ তিনি ছিলেন একজন দাস। তাঁর উপর সীমাহীন অত্যাচার করা হবে এটা তিনিও জানতেন, তাকে প্রটেক্ট করার জন্য কেউ নেই সেটাও জানতেন। কিন্তু ঈমানের কি শক্তিমত্তাই না তিনি দেখিয়েছিলেন! মরুভুমির উত্তপ্ত বালিতে বুকে পাথর চাপা দিয়ে শুইয়ে রাখা বিলালের পেছন দিক ঝলসে যাওয়া দেখে এক কাফের ব্যঙ্গ করে বলল, তোমার পেছনদিক সত্যিই খুবই কুৎসিত দেখাচ্ছে! নিশ্চয় এই দিনগুলোই তোমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিন। জবাবে বিলাল বললেন, আল্লাহর কসম! এই দিনগুলোতেই আমি ঈমানের মিষ্টতার স্বাদ পেয়েছি!

ইসলামে সীমাহীন অত্যাচার আর ঈমানের পরীক্ষা দিয়েছেন যারা হযরত বিলাল তাদের মধ্যে অন্যতম। তার প্রতিদানও আল্লাহ্‌ তাকে দিয়েছেন। সহিহ ইবন খুযাইমা গ্রন্থে বর্ণিত আছে, একদিন রাসুল (সঃ) বিলালকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “বিলাল, কিসের বদৌলতে তুমি আমার আগেই জান্নাতে পৌঁছে গেলে? গতরাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করে তোমার খশখশা আওয়াজ শুনতে পেলাম।”

মুমিনদের কষ্টের সান্ত্বনা দিয়ে আল্লাহ্‌ কুরআনে সূরা ইনশিরাহতে বলেছেন, “নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।” [সূরা ইনশিরাহঃ ৫]

মক্কার কাফেরদের সীমাহীন অত্যাচার আর সইতে না পেরে মুসলিমরা মদিনায় হিজরত করেছিল। নিজের ঘর বাড়ী, ধন সম্পত্তি সব ছেড়েছিল। শুধু আল্লাহ্‌র জন্য, শুধু ইসলামের জন্য। সব হারানোর বেদনা এদেরকে কোনদিন আল্লাহ্‌র রাস্তা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। হযরত সুহাইব ইবন সিনান আর রুমি (রাঃ) এই বেচারা আরবের বাইরে থেকে এসে মক্কায় প্রচুর ধন সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। সবাই হিযরত করে মদিনায় চলে গেলেও তিনি যেতে পারলেন না। কুরাইশরা তাকে সবসময় চোখে চোখে রাখতো। উনি যাতে কোনভাবে পালাতে না পারে। একদিন কুরাইশদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়লেন আর এটা জানতে পেরে কুরাইশরা তার পিছু নিল। তারা বলল মক্কায় যে ধন সম্পদ অর্জন করেছে সেই সম্পদ নিয়ে তারা তাকে যেতে দেবে না। তখন সিনান আর রুমি সহজ ভাবেই বলল, “আমি যদি আমার সব ধন সম্পদ তোমাদের হাতে তুলে দেই তাহলে কি তোমরা আমাকে যেতে দেবে?” তারা উত্তর দিল, হ্যাঁ! সিনান আর রুমি তার সবকিছু তাদের হাতে তুলে দিলেন শুধু এজন্য যে তারা তাকে মক্কা থেকে মদিনায় যেতে দেবে! সুবাহানাল্লাহ! তার এর ত্যাগের জন্য রাসুল (সাঃ) তাকে দেখেই তিনবার বলেছিলেন, “নিশ্চয় ব্যবসা লাভজনক হয়েছে”।

হিযরতের পর মদিনায় মুহাজিরদের চাপে অর্থনৈতিক ভিতটা নড়ে উঠেছিল। চরম আর্থিক দুর্গতি দেখা দেয়। আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে এরকম চরম কষ্টের সময়ও মুসলিমরা জিহাদে অংশগ্রহণ করত। তাদের এই চরম কষ্টের সময়গুলো সম্পর্কে হযরত সা’দ বলেন, “আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম; অথচ তখন গাছের পাতা ছাড়া আমাদের খাওয়ার কিছুই থাকতো না। (তা খেয়েই আমরা জীবন ধারণ করতাম) আর আমাদের বিষ্ঠা হত উট ছাগলের বিষ্ঠার মত”।

কষ্ট, হারানোর বেদনা, বিপদ এসব মুমিনের নিত্যসঙ্গী। আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) সারাজীবন কষ্ট করেছেন। সাহাবারা সারাজীবন কষ্ট করেছেন। যুগে যুগে আল্লাহ্‌র রাস্তায় মুমিনরা সীমাহীন দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন, এখনো তাই। কুরআনে আল্লাহ্‌ এসব নির্যাতিত, বিপদে পতিত মুমিনদের অবিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন,

“যারা ঈমান আনে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে যান”। [সূরা বাকারাঃ ২৫৭]

আল্লাহ্‌ এই মানুষগুলোকে তার প্রিয় বান্দা হিসেবে পছন্দ করেছেন। তাদেরকে কল্যাণ দান করেছেন। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) বলেছেন, “মহান আল্লাহ্‌ যে ব্যক্তির কল্যাণ চান তাকে বিপদে পতিত করেন”। (বুখারি)

হযরত আবু সাইদ ও আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ “মুসলিম বান্দার যেকোনো ক্লান্তি, নিত্য ব্যাধি, দুশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা, দুঃখ- কষ্ট ও অস্থিরতা হোক না কেন, এমনকি কোন কাঁটা ফুটলেও তার কারণে মহান আল্লাহ্‌ তার গুনাহসমুহ মিটিয়ে দেন”। (বুখারি, মুসলিম)

কাফের, মুশরিক আর ইসলামের শত্রুদের অত্যাচার, জুলুমের মাঝেও মুমিনদের জন্য সুসংবাদ আছে। আল্লাহর পুরষ্কার আছে। হক্ব আর বাতিলের চিরায়ত দ্বন্দ্বে আল্লাহর কাছে কার পরিণতি কি সেটা সূরা বুরুজের দুইটা আয়াত দিয়ে বলে দেওয়া যায়। আল্লাহ্ বলছেন,

“যারা মুমিন পুরুষ ও নারীকে নিপীড়ন করেছে, অতঃপর তওবা করেনি, তাদের জন্যে আছে জাহান্নামের শাস্তি, আর আছে দহন যন্ত্রণা,” [সূরা আল বুরুজঃ ১০]

“যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্যে আছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নির্ঝরিণীসমূহ। এটাই মহাসাফল্য।” [সূরা আল বুরুজঃ ১১]

 

 অত্যাচারিত বিলাল, আম্মাররা আল্লাহর মেহমান হয়। এরা মরেও বেঁচে থাকে। যুগ যুগ ধরে এদের উত্তরসূরিরা বেঁচে থাকে। ইমাম মালিক, আহমদ ইবন হাম্বল থেকে ইবন তাইমিয়া, সাইদ কুতুব, আওলাকি কেউই মরেনি। কাফেররা তাদের মারতে পারেনি। শহীদের রক্ত কখনো শুকায়না। মজলুমের আর্তনাদ বহুগুণ বিধ্বংসী হয়ে জালিমের কাছে ফিরে আসে। অবশ্যই ফিরে আসে। একদিন সময় আসবে, আলবৎ আসবে……

দোয়া করবেন সবাই। অনেক অনেক দোয়া। আমার ভাইদের জন্য দোয়া। আমার ভাইদের জন্য ভালোবাসা।

আউফ ইবনে মালিক আশযায়ী (রা) রাসুলুল্লাহ (সা) এর কাছে এসে বললেন,
“হে রাসুলুল্লাহ (সা), কাফিররা আমার ছেলেকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছে আর তাতে আমার স্ত্রী বিচলিত হয়ে আছে, আপনি এ ক্ষেত্রে আমাকে কি উপদেশ দিবেন?”

রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, “তোমার স্ত্রী এবং তোমার জন্য আমার উপদেশ হল তোমরা ঘনঘন – “ লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াআ ইল্লা-বিল্লা-হি” বলতে থাক” ……………… ”

হাদিসটি ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন।

ইনশাআল্লাহ্ আমরা আমাদের মুসলিম ভাইদের জন্য দোয়া করব বেশী বেশী। মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করব, চিন্তা করব এবং অবশ্যই কাজ করব ইনশাআল্লাহ।

শেষকথাঃ কষ্টের মুহূর্তগুলোতে আমার খুব প্রিয় একটা হাদিস আছে। হযরত আবু ইয়াহইয়া সুহাইব ইবন সিনান (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুল (সঃ) বলেছেন, “মু’মিনের ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক। তার সকল কাজই কল্যাণময় তার আনন্দময় কিছু হলে সে আল্লাহ্‌র শোকর আদায় করে, তাতে তার কল্যাণ সাধিত হয়। আবার তার দুঃখজনক কিছু হলে সে আল্লাহ্‌র ওপর ধৈর্যধারণ করে, এটাও তার জন্য কল্যাণকর”। (মুসলিম)

কাফের, তাগুতের অত্যাচারে আমরা হতাশ হই, কষ্ট পাই। তখন আমাদের মনে রাখা উচিত আল্লাহ্‌ আমাদেরকে তার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্য থেকে খুবই সৌভাগ্যবান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তার জমিনে আমাদেরকে তার দ্বীন কায়েমের জন্য বাছাই করেছেন যে পথে দুঃখ, কষ্ট, হতাশা আমাদের ঘিরে ধরে। আমাদের মনে রাখা উচিত এই বেদনার মুহূর্তগুলো আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে এই রহমত আমাদের আখিরাতকে মধুর সময়ে ভরিয়ে দেবে ইনশাআল্লাহ। আমরা হতাশ হবো না। ধৈর্য হারাবো না। আল্লাহ্‌র উপর আস্থা রাখবো। মুমিনদের প্রতি আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি কখনো মিথ্যে হবার নয়। তালেবান প্রধান মোল্লা উমর ২০০১ সালে একটা কথা বলেছিলেন। সেই কথাটাই আমার প্রিয় ভাই বোনদের জন্য সর্বশেষ অনুপ্রেরণা হিসেবে দিয়ে গেলাম…..

“I am considering two promises. One is the promise of Allah, the other of Bush. The promise of Allah is that my land is vast…the promise of Bush is that there is no place on Earth where I can hide that he won’t find me. We shall see which promise is fulfilled.”

একদিন আমাদেরও সময় আসবে কাফেরদের টুটি চেপে ধরার। অবশ্যই আসবে ইনশাআল্লাহ। সেদিনের আগপর্যন্ত তোরা ঠিকে থাক। হাল ধরে থাক। ভয়ংকর ঝড় সব এলোমেলো করে দেবে কিন্তু একদিন আমরা তীরে পৌঁছব ইনশাআল্লাহ। আলবৎ পৌঁছব……

 

সূত্রঃ আনিকা ওয়ার্দা তুবা, ফেসবুক

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s